সিনেমা হলো ২৪ ফ্রেমে ধরা একটা স্বপ্ন। এটা শুধু গল্প না, এটা হাজার কোটি টাকার ইন্ডাস্ট্রি, লাখ লোকের রুটি-রুজি, আর কোটি মানুষের আবেগ। ১. বিশ্ব সিনেমার ইতিহাস1895: লুমিয়ের ব্রাদার্স প্রথম ছবি দেখালো।1931: ভারতে প্রথম টকি “আলম আরা”।1950-60: সত্যজিৎ রায়ের “পথের পাঁচালী” দিয়ে বাংলা সিনেমা বিশ্বে জায়গা পেলো।2009: “Avatar” দিয়ে 3D আর VFX এর নতুন যুগ।2020: করোনার পর OTT বিস্ফোরণ। ২. ভারতীয় সিনেমা – ৪ স্তম্ভ A. বলিউড – হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকেন্দ্র: মুম্বাই। বছরে ২০০+ ছবি।বৈশিষ্ট্য: গান, নাচ, স্টার পাওয়ার, ১০০ কোটির ক্লাব।এখনকার চিত্র: ২০২২ সালে “ব্রহ্মাস্ত্র”, “পাঠান”, “জওয়ান” সুপারহিট। কিন্তু মাঝে অনেক বড় বাজেটের ছবি ফ্লপ। কারণ? দর্শক এখন গল্প চায়, শুধু স্টার না।সমস্যা: রিমেক বেশি, অরিজিনাল কম। বাজেট অনেক, রিস্কও অনেক। B. টলিউড – বাংলা সিনেমাকেন্দ্র: কলকাতা, টালিগঞ্জ।সোনালী যুগ: সত্যজিৎ, মৃণাল সেন, ঋত্বিক। “চারুলতা”, “নগরীক” আজও ক্লাস।এখনকার চিত্র: ২ রকম ধারা। C. সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমা – গেম চেঞ্জারতামিল, তেলেগু, কন্নড়, মালায়ালাম।কেন হিট?: রুটেড গল্প + বিশাল অ্যাকশন + লোকাল কালচার। ডাব করে সারা ভারতে ছাড়ছে।উদাহরণ: “বাহুবলী” ১৭০০ কোটি, “RRR” অস্কার পেলো, “KGF”, “কান্তারা”, “২০১৮”।টেকনিক্যালি এরা এখন ভারতের সেরা। VFX, সাউন্ড, সিনেমাটোগ্রাফি তে টাকা ঢালছে। D. মালায়ালাম – কন্টেন্টের রাজাবাজেট কম কিন্তু গল্পে ১০০/১০০। “Drishyam”, “2018”, “Manjummel Boys”। বাস্তব গল্প, ন্যাচারাল অভিনয়। ক্রিটিক্স আর দর্শক দুই দিকেই হিট। ৩. হলিউড আর OTT এর দাপটNetflix, Amazon Prime, Disney+ Hotstar এর জন্য সিনেমার সংজ্ঞা বদলে গেছে।সুবিধা: ছোট শহরের গল্পও বিশ্ব দেখছে। “Squid Game”, “Money Heist” এর মতো বিদেশি সিরিজও সুপারহিট।অসুবিধা: হলে লোক কমছে। প্রোডিউসাররা এখন সরাসরি OTT তে ছবি ছাড়ছে। ৪. একটা সিনেমা কিভাবে বানায়? পুরো প্রসেসধাপ কাজ সময় খরচপ্রি-প্রোডাকশন গল্প, স্ক্রিপ্ট, লোকেশন, কাস্টিং 3-8 মাস মোট বাজেটের 10%প্রোডাকশন শুটিং, লাইট, ক্যামেরা, আর্ট 30-120 দিন মোট বাজেটের 60%পোস্ট-প্রোডাকশন এডিটিং, VFX, কালার, ডাবিং, BGM 4-10 মাস মোট বাজেটের 30%মার্কেটিং ট্রেলার, প্রমোশন, হল বুকিং 1-2 মাস বড় ছবিতে 50 কোটি+একটা ১০০ কোটির ছবির পেছনে ৩০০+ মানুষ সরাসরি কাজ করে। স্পট বয় থেকে ডিরেক্টর – সবার স্বপ্ন জড়ানো। ৫. ২০২৬ এর বড় ট্রেন্ড ৬. বাংলা সিনেমার সামনে রাস্তাসুযোগ: OTT, ভালো গল্প, নতুন পরিচালক। “কবীর”, “আর্চারের বাঁদর” এর মতো ছবি দেখিয়েছে দর্শক আছে।চ্যালেঞ্জ: বড় বাজেট, ভালো মার্কেটিং, আর সারা ভারতে রিলিজ। সরকারি সাহায্য আর কর্পোরেট ফান্ডিং দরকার। শেষ কথা:সিনেমা কখনো মরবে না। কারণ মানুষ গল্প শুনতে ভালোবাসে। পর্দা ছোট-বড় হতে পারে, মোবাইল থেকে IMAX হতে পারে। কিন্তু অন্ধকার হলে লাইট নিভে গিয়ে যখন পর্দায় গল্প শুরু হয়, সেই ম্যাজিকটা থেকে যাবে।